Latest News

বন্ধ্যাত্ব ও উত্তোরনের উপায়

  • মহিলাদের সন্তান জন্মের অক্ষমতাকে আমরা বন্ধ্যাত্ব বলে থাকি। বন্ধ্যাত্ব কোন রোগ নয়,এই অবস্থা বিভিন্ন রোগের কারণে হয়ে থাকে। মোট কথা অন্য রোগের পরিণাম ফলই বন্ধ্যাত্ব। মহিলাদের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা লোক পেলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দানের ব্যাঘাত বেশি ঘটে থাকে। শারীরিক দুর্বলতা,অতিরিক্ত মেদ,বাধক বেদনা, ঋতু স্রাবের গোলযোগ,প্রদর স্রাব এধরনের বহুবিধ কারণ থাকতে পারে।

  • বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে জেনেটিক, যেকোনো ব্যাধি বা কোনো বিশেষ রোগে একজন মহিলা ভুগছেন। প্রতিটি মহিলা আলাদা, এবং তাদের শরীরও আলাদা। অতএব, বন্ধ্যাত্বের কারণগুলি এক মহিলার থেকে অন্য মহিলার থেকে আলাদা হতে পারে।



  • বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী কে?

    পুরুষ বন্ধ্যাত্ব সাধারণত বীর্যের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে, এবং বীর্যের গুণমানকে পুরুষের উর্বরতার পরিমাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অতি সম্প্রতি, অন্তঃকোষীয় শুক্রাণুর উপাদান পরীক্ষা করে এমন অগ্রিম শুক্রাণু বিশ্লেষণ তৈরি করা হচ্ছে।

    কারণসমূহ পুরুষ বন্ধ্যাত্ব 20-30% বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে দায়ী, যখন 20-35% মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণে, এবং 25-40% উভয় অংশের সম্মিলিত সমস্যার কারণে। ১০-২০% ক্ষেত্রে কোনো কারণ পাওয়া যায় না। মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল ডিম্বস্ফোটন সমস্যা, সাধারণত স্বল্প বা অনুপস্থিত মাসিকের দ্বারা প্রকাশিত হয়।

    মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ কি?                                                                                                    বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়ে থাকে-  জরায়ুর মুখের আংশিক বা সম্যক অবরোধ থাকে,অপত্যপথ যদি অপ্রশস্ত থাকে বা তার আংশিক অবরোধ ঘটে কিম্বা সতীচ্ছদ যদি ছিন্ন না হয় তবে নারীদের বন্ধ্যা হয়। এছাড়াও বিশেষ কিছু কারণ পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্যতম জরায়ুর স্থানচ্যুতি। অবশ্য জরায়ুর স্থানচ্যুতি অনেক প্রকারের হতে পারে। প্রতিটি অবস্থায় যে সন্তান জন্মদানে বাধা সৃষ্টি করে তা নয়। জরায়ু বা যোনিমধ্যে টিউমার,বাধক,শ্বেত প্রদর,জরায়ুর ক্ষত, জরায়ুর মুখের সঙ্কোচন,জরায়ুর অর্বুদ ইত্যাদিও ক্ষেত্র বিশেষে বন্ধ্যাত্ব আনয়ন করে। যে সকল নারী অতিরিক্ত মোটা বা স্থুল দেহের অধিকারী তারা অনেকেই বন্ধ্যা সুতরাং স্থুলও বন্ধ্যাত্বের কারণ। আবার অনেক সময় দুর্ব ল প্রকৃতির নারী যাদের শরীরে পুরাতন রোগ স্থায়ী হয়ে আছে এমন নারীদের ক্ষেত্রেও সন্তান জন্ম দানের অক্ষমতা পরিলক্ষিত হয়।                                                                                                            নারীদের ডিম্ব (Ovum) স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন না হওয়ার কারনেও সন্তান উৎপাদন করতে পারেন না এ জন্য পুষ্টিকর খাদ্য,ব্যায়াম, উদরের ম্যাসেজ বা মর্দন ইত্যাদির ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হয়।           বিধান বিকারজনিত বন্ধ্যাত্বের কোন চিকিৎসা নাই। সুতরাং ঔষধ প্রয়োগ করা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু অন্যান্য ব্যাধির ফলে সৃস্ট বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করলে বন্ধ্যা নারীর সন্তান প্রসবে সক্ষমতা হতে পারে।অনেক সময় স্বামীর ধ্বজভঙ্গ বা রোগের কারণে নারীর বন্ধ্যা হয়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী উভয়ই রোগ বিশেষে চিকিৎসা করলে বন্ধ্যাত্বের অভিশাপ থেকে ‍মুক্তি লাভ করতে পারেন। কিন্তু স্বামী সম্পূর্ণ  স্যুস্থ থাকলে এবং স্ত্রীর জনন যন্ত্রসমূহ অপরিপুষ্ট না থাকে,তবে তার কারণ অনুসারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।                                                                                                                                                 লক্ষণ অনুসারে বন্ধ্যা রোগীর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। সাধারণত যে সব লক্ষণ সমূ পরিলক্ষিত হয়-                                                                                                                                         (1) অনেক নারীর ঋতুচক্রের গোলযোগ,ঋতুবন্ধ বা সামান্য পরিমাণে স্রাব,অল্প পরিমান শ্বেত প্রদর। স্বামী সহবাসে অনিচ্ছা। স্ত্রী-জননেন্দ্রিয়ের শিথিলতা,অন্যমনষ্কতা,নিরুৎসাহ,মৃত্যুভয়,স্মরণশক্তির হ্রাস এমন লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে তা চিকিৎসার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব দূর করা সম্ভব।                                           (2) অনেক সময় স্ত্রীর জরায়ুর কাঠিন্য এবং জরায়ুর ভ্রংশ,গন্ডমালা রোগ,উপদংশ এবং পারদের অপব্যবহারকারিনী মহিলাদের পক্ষে সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা পরিলক্ষিত হয়। এই সমস্ত মহিলাদের মাঝে নৈরাশ্য বিলাপশীলতা,জীবনের প্রতি অনিহা,আত্মহত্যার ইচ্ছা এসব প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা যায়।                                                                                                                                                        (3) অনেক সময় ,মহিলাদের শারীরিক দূর্বলতা বা রক্তশূণ্যতা,কামোম্মাদ,রোগিনীর ফেকাশে চেহারা,বোকা,বুদ্ধি ও স্মরণশক্তির অভাব দেখা যায়। কোন কোন মহিলার তলপেটে ব্যাথা হয়। স্ক্রোফুলাধাতুর স্ত্রীলোকদের লক্ষণ অনুসারে কিকিৎসা করা হলে আল্লাহর কৃপায় সন্তান প্রসবে সক্ষমতা তৈরি হয়।                                                                                                                                (4) বন্ধ্যাত্বে অন্যতম একটি কারণ তীব্র স্রাববিশিষ্ট শ্বেত প্রদর। ডাঃ স্ক্রীটার মোটা বা চিকোন উভয় শ্রেণির মহিলাদের এসমস্যা দেখা য়ায়। কোন কোন মহিলার ঋতু স্রাবের পূর্বে তলপেটে ব্যাথা অনুভুত হয়। প্রজনন ক্ষমতার স্বাভাবিক অবস্থাকে বাধাগ্রস্থ করে ম্বেত প্রদর তাই লক্ষণ বিশেষে চিকিৎসার প্রয়োজন।                                                                                                                                                  ঋতুকালে জরায়ুস্থানে হুলবিদ্ধের ন্যায় বেদনা দেখা যায়। জরায়ূ ও ডিম্বকোষের কঠিনতা এবং স্ফীতি,কর্তনের ন্যায় বেদনাসহ কাঠিন্য। প্রবল সঙ্গমেচ্ছা,মাথাঘোরা। স্বল্পরজ,বিমর্ষভাব,কোন প্রকার কাজে অনিহা। রোগিণী লোকের সংসর্গ  পছন্দ করে না এমন লক্ষণ দেখা যায়।                                    (5) গলগ্রন্থি,স্তন,ডিম্বকোষ,জরায়ু ইত্যাদির বৃদ্ধি,হলদে রং এর হাজাকর প্রদরস্রাব। রাক্ষুসে ক্ষুধা,রোগিণী খায় অথচ দিন দিন শুকাইয়া যায়।                                                                                      (6) ঋতুস্রাবের রোধ অথবা নিয়মিত সময়ের পূর্বে  অধিক পরিমান এবং অধিককাল স্থায়ী স্রাব, প্রচুর পরিমাণ হলদে রংয়ের প্রদরস্রাব,প্রাতঃকালে নিদ্রা হইতে জাগিবামাত্র মাথাধরা যা দুপুর পর্যন্ত থাকে।নিরুৎসাহ,বিষণ্ণ,বিলাপশীল প্রকৃতি,রুটিতে অরুচি এবং লবনে প্রবৃত্তি।                                               (7) জরায়ুর কাঠিনতা এবং জরায়ুভ্রংশ। ডিম্বকোষে রক্তসঞ্চয়। কামেচ্ছা প্রবল,তলপেটে যেন একটি সজীব প্রাণী রয়েছে এইরূপ মনে হয়। পবিবর্ত নশীল প্রকৃতি কখনও বিষন্নতা,কখনও প্রফুল্লতা। অহঙ্কারী রোগিনী নিজেক বড় মনে করে অন্যকে অবজ্ঞা করে। যোনিদেশে এবং তলপেটে সুড়সুড় করে কামোদ্রেক।                                                                                                                                    (8) নম্র প্রকৃতি,কোমল ও মধুর স্বভাবের নারীদের জরায়ুতে সমস্যা,তলপেটে, মাজায় কর্ত নবৎ বেদনাসহ কষ্টরজ বা বাধক সেই সঙ্গে শীতবোধ,মাথাধরা এবং ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।   

                                                                                                                                                                                         
       
    PCOS- পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় সিন্ড্রোম, মহিলাদের মধ্যে উর্বরতাকে প্রভাবিত করে এমন একটি সাধারণ কারণ। যদি মহিলার PCOS থাকে, তবে এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করে যা ডিমের উত্পাদন এবং তাদের গুণমানকে প্রভাবিত করে। PCOS সাধারণত ডিম্বস্ফোটনে আঘাত করে যার ফলে কোন গর্ভাবস্থা জটিল হয়। 

    ক্ষতিগ্রস্ত ফ্যালোপিয়ান টিউব- প্রদাহ, সংক্রমণ, রোগ বা অন্য কোনো কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে গর্ভাবস্থায় অসুবিধা হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ফ্যালোপিয়ান টিউব নিষিক্তকরণের জন্য শুক্রাণুকে ডিম্বাণু পৌঁছাতে বাধা দেয় যা একটি শিশুর গর্ভধারণ করা কঠিন করে তোলে। এবং কিছু ক্ষেত্রে, এই অবস্থা মায়ের জীবনকে বিপদে ফেলে একটোপিক গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ায়। 
    অস্বাস্থ্যকর ওজন- অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজনের মহিলারা প্রজনন সমস্যা অনুভব করতে পারেন। হয় ডিম্বস্ফোটন ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, ডিম নিষিক্তকরণের প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে। তাই অনিয়মিত ওজন বন্ধ্যাত্বের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 
    Endometriosis- এটি একটি মোটামুটি সাধারণ অবস্থা তবে গুরুতর পর্যায়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এন্ডোমেট্রিওসিসের সময়, জরায়ুর আস্তরণ ভিতরের পরিবর্তে বাইরে বাড়তে শুরু করে। রক্ত জরায়ুর মাধ্যমে শরীর থেকে প্রবাহিত হওয়ার পরিবর্তে জরায়ুর বাইরে জমা হতে শুরু করে এবং মাসিককে অত্যন্ত বেদনাদায়ক করে তোলে। অনেক সময় এই অবস্থা ফ্যালোপিয়ান টিউবকে ব্লক করে দেয় যা বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 
    fibroids- এগুলি জরায়ুতে দেখা দেয় এমন সৌম্য পিণ্ড। আকার এবং সংখ্যা এক মহিলার থেকে অন্য মহিলার থেকে আলাদা হতে পারে বা যথাসময়ে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। ফাইব্রয়েড জরায়ুকে খারাপভাবে প্রভাবিত করতে পারে যার ফলে অনিয়মিত পিরিয়ড হয় এবং বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হয়। 

    এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে যা উর্বরতা রোগের কারণ হতে পারে, যেমন অনিয়মিত পিরিয়ড, জরায়ুতে সংক্রমণ, সিস্ট, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অত্যধিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান এবং ব্যাখ্যাতীত কারণ। যাইহোক, আয়ুর্বেদে বন্ধ্যাত্বের সমস্যাগুলিকে উন্নত বা নিরাময়ের জন্য চিকিত্সার একটি সেট রয়েছে। 

    মহিলা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিতে কারা?

    নিম্নলিখিত কারণগুলির সাথে মহিলা প্রার্থীরা সাধারণত বন্ধ্যা হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে- 

    ·                     আপনি যদি অতিরিক্ত ধূমপান করেন 

    ·                     আপনি যদি প্রচুর পরিমাণে নিয়মিত অ্যালকোহল পান করেন

    ·                     আপনি যদি স্বাস্থ্যকর শরীরের ওজন বজায় না রাখেন

    ·                     আপনার যদি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন থাকে

    ·                     বয়স কিভাবে মহিলা বন্ধ্যাত্ব প্রভাবিত করে?

    বয়স একটি উল্লেখযোগ্য কারণ যা মহিলাদের উর্বরতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি সাধারণত ঘটে কারণ বয়সের সাথে ডিমের সংখ্যা হ্রাস পায়, নিষিক্ত ডিমগুলি ক্রোমোসোমাল অস্বাভাবিকতা এবং অসফল প্রাকৃতিক গর্ভধারণের কারণে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

     







No comments:

Post a Comment

Jonakihomoeohall Designed by Templateism.com Copyright © 2014

Powered by Blogger.
Published By Gooyaabi Templates